
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বেশ ঘুরপাক খাচ্ছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশের উপস্থিতিতে মসজিদের মতো একটি ভবন ভাঙা হচ্ছে। ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা বলে দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান চিত্র কোথায় মানবাধিকার? মসজিদ ভাঙ্গচুর।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, পাকিস্তানের করাচির জামশেদ রোডে অবস্থিত আহমাদি মসজিদ ভাঙচুরের ভিডিওকে পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ভাঙচুরের ভিডিও বলে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে সার্চ করি। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, তারিখের হিন্দুস্তান টাইমস-এর ভিডিও উপস্থাপন অনুযায়ী,”পাকিস্তানের করাচিতে আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি উপাসনাস্থলে ইসলামপন্থীদের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যম দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা ওই উপাসনাস্থলের মিনারগুলো ভেঙে দেয়। পাকিস্তানের আইনে আহমদিদের তাদের উপাসনাস্থলকে মসজিদ বলে উল্লেখ করার অনুমতি নেই। আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই উপাসনাস্থল, আহমদিয়া হল ১৯৫০-এর দশকে নির্মিত হয়েছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ভাঙচুর ঠেকাতে ব্যর্থ হয় এবং এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি।
গুগল ম্যাপ্সও নিশ্চিত করে যে, ভিডিওটি পাকিস্তানের করাচির।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মসজিদ ভাঙচুরের ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়। এটি পাকিস্তানের করাচির জামশেদ রোডে অবস্থিত আহমাদি উপাসনাস্থল ভাঙচুরের ঘটনা।

