
২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইজরায়েল ও আমেরিকার ইরানে যৌথ মিশাইল অভিযান চালিয়ে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। এই হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনেই সহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডাররা। এই প্রেক্ষাপটে, মিসাইল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও গ্যারাজের হামলার আগে ও পরের দৃশ্য দেখিয়ে একটি তুলনামূলক ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনার দৃশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”আলী খামিনির বাসভবনের হামলার পরের চিত্র ।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভিডিওটি ইরানের নয়, ভেনিজুয়েলার। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও সৈন্যবেসের আগে-পরে দৃশ্য প্রদর্শনের ভিডিওকে ভুয়ো দাবির সাথে প্রচার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, ‘Aftermath of U.S. Strikes on Caracas, Venezuela’ যার অর্থ- ভেনেজুয়েলার কারাকাসে মার্কিন হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি। এই থেকে আন্দাজ হয়ে যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক ইরান হামলার সাথে সম্পর্কিত নয়।
ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কিত বিস্তারিত জানতে, কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। প্রথম ছবিটি হল মিরাফ্লোর প্যালাস-এর। মিরাফ্লোর প্যালাস হলো ভেনেজুয়েলার সভাপতির সরাসরি অফিস ও সরকার চালানোর প্রধান স্থল, যা উরডানেটা এভিনিউ, লিবার্তাদর বোলিভারিয়ান মিউনিসিপালিটিতে, কারাকাসে অবস্থিত। এটি রাষ্ট্রপতির অফিস ও সরকারী কাজের কেন্দ্র। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে মিরাফ্লোরেস প্রাসাদের স্যাটেলাইট ছবি।

পরের দৃশ্যগুলো কেন্দ্রিক অনেক সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন গুলো অনুযায়ী, পরের দৃশ্যটি ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ফুয়েরটা টুনার। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এটি দেশটির অন্যতম প্রধান সামরিক সদর দপ্তর এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কৌশলগত কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হয়। ৩ জানুয়ারিতে করা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, সামরিক যানবাহন ও সরঞ্জাম ধ্বংসের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে।

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, সামরিক যানবাহন ও সরঞ্জাম ধ্বংসের আগে ও পরের দৃশ্য দেখানো একটি তুলনামূলক ভিডিওকে সাম্প্রতিক ইরানের ঘটনা বলে ভুয়ো দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

