
ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে ইরানের সুপ্রিম লিডারের হত্যার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের বন্যা দেখা যাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলার ভিডিওও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। এই ইরান–ইজরায়েল–আমেরিকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের হামলায় ইজরায়েলের তেল আবিবে একটি রাসায়নিক কারখানা ধ্বংস হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশের দিকে শত শত মিটার উঁচু পর্যন্ত কালো ও কমলা রঙের ঘন ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠে যাচ্ছে। ভয়াবহ সেই দৃশ্য দেখে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করে।
ভিডিও পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে তেল আবিবের পরিস্থিতি। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে তেল আবিবের একটি রাসায়নিক কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভিডিওটি চলমান ইরান ইজরায়েল সংঘর্ষের সাথে সম্পর্কিত নয়। ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বরে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের কাছে একটি শিল্প কারখানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের ভিডিওকে ভুয়া দাবির সাথে প্রচার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ‘TRT World’-এর ভিডিও উপস্থাপন অনুযায়ী- বুয়েনোস আইরেসের এজেইজা এলাকার স্পেগাজ্জিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যার ফলে রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলোতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড’-এর ইউটিউব চ্যানেলে এই বিস্ফোরণের সংবাদ উপস্থাপন ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, তারিখে আপলোড এটিকে আর্জেন্টিনার রাজধানীর নিকটে অবস্থিত রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণের বলে জানানো হয়েছে।
১৪ নভেম্বর,২০২৫, তারিখের রাতে এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এই দুর্ঘটনায় ২২ জন আহত হয়েছিল।

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের কাছে একটি শিল্প কারখানায় সংঘটিত শক্তিশালী বিস্ফোরণের পুরোনো ভিডিওকে ইরানের হামলায় তেল আবিবের একটি রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণের ভিডিও বলে দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে।

