
সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করে সেটিকে ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ভিডিও দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একজন ব্যক্তিকে বড় ঘণ্টায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং মাঝে মাঝে দোলানো হচ্ছে। ভয়েসওভারে ব্যক্তি বলছেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এক মুসলিম যুবককে হত্যা করে মন্দিরের ঘটনায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কথা বলায় এক মুসলিম যুবককে নির্মমভাবে হ*ত্যা করে মন্দিরের ঘণ্টার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি, দাবিটি ভুয়া। ঘণ্টায় দেহ ঝোলানোর এই ভিডিওটি ভারতের নয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনো সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই। ঝুলন্ত নারীটি হলেন অস্ট্রিয়ার পারফরম্যান্স আর্টিস্ট ফ্লোরেনটিনা হোলজিঞ্জা। জলবায়ু পরিবর্তনের সংকেত দিতে তিনি অস্ট্রিয়ান প্যাভিলিয়নে নিজেকে ঘণ্টায় ঝুলিয়েছিলেন এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করেছিলেন।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলস্বরুপ, এই একই ভিডিও বেশ কিছু ইন্সতা প্রোফাইলে পাওয়া যায়। যেখানে, ঘণ্টায় ঝুলন্ত নারীকে অস্ট্রিয়ার পারফরম্যান্স আর্টিস্ট ফ্লোরেনটিনা হোলজিঞ্জা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ভেনিস বিয়েনালে, তিনি একটি বিশাল ব্রোঞ্জের ঘণ্টার ভেতরে উল্টো ঝুলে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সতর্কবার্তা দিতে তিনি নিজের শরীরকেই ঘণ্টার জিভের মতো ব্যবহার করেছিলেন।
উপরোক্ত তথ্যকে মাথায় রেখে গুগলে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম, ব্লগপোস্টেও এই খবরের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘দি ফ্রি প্রেস জার্নাল’-এর শিরনামে লেখা হয়েছ,”ভেনিস বিয়েনালে ২০২৬-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এক নারী ব্রোঞ্জের ঘণ্টার ভেতরে উল্টোভাবে নগ্ন অবস্থায় ঝুলেছিলেন।“

দি গার্ডিয়ান সহ অন্যান্য প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ঘণ্টায় দেহ ঝোলানোর এই ভিডিওটি ভারতের নয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনো সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই। ঝুলন্ত নারীটি হলেন অস্ট্রিয়ার পারফরম্যান্স আর্টিস্ট ফ্লোরেনটিনা হোলজিঞ্জা। জলবায়ু পরিবর্তনের সংকেত দিতে তিনি অস্ট্রিয়ান প্যাভিলিয়নে নিজেকে ঘণ্টায় ঝুলিয়েছিলেন এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করেছিলেন।

