
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ের ঘটনা। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন পুরুষ নিজেদের মধ্যে লাঠি নিয়ে মারামারি ও ঝগড়ায় লিপ্ত। এ সময় এক নারীকে কুড়াল দিয়ে হামলা করতেও দেখা যায়। দাবি করা হচ্ছে, গাড়ি ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয়দের বচসা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”ভারতের #উওর প্রদেশে হাপুড়ে #টুরিস্ট দের ওপর হামলা হয়েছে গাড়ি অভার টেক করাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশে ২৮ জুন ভিসা চালু করছে এবার ভাবুন মুসলিমরা ঔ দেশে যাবেন কি না। বালতে পারি আপনি মুসলিম হলে ১০১% হেন্তার শিকার হবেন। আপনি লান্চনার শিকার হবেন বাংলাদেশ সরকার বলবে আমরা তিব্রনিন্দা জানাই বিষয় শেষ সব ধামা চাপা। প্রতিদিন বাংলাদেশের জনগনের উচিত ভারতকে বইকট করা।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ভিডিওটি উত্তরপ্রদেশের নয় বরং হরিয়ানার ফরিদাবাদের খেড়ি এলাকার। মুদির দোকান পরিচালনা করা দুই ভাড়াটে ভাইয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে শেয়ার করা হচ্ছে।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলস্বরুপ, সংশ্লিষ্ট ভিডিও কেন্দ্রিক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দৈনিক ভাস্কর-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৫ এপ্রিল,২০২৫, তারিখের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরিয়ানার ফরিদাবাদের খেড়ি এলাকার ভারত কলোনিতে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের বচসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, দুই ভাড়াটে ভাইয়ের ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঝগড়া থামাতে গেলে একটি পরিবারের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে এক মহিলাসহ কয়েকজন আহত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শিবম, গোপাল ও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

| প্রতিবেদন | আর্কাইভ |
এই ঘটনায় আরোপীদের গ্রেফতার করে একটি ছবিও পোস্ট করা হয়েছিল ফরিদাবাদ পুলিশ এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছিল- ভারত কলোনিতে মারামারির ঘটনায় খেড়ি পুল থানার পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ভিডিওটি উত্তরপ্রদেশের নয়; এটি হরিয়ানার ফরিদাবাদের খেড়ি এলাকার। মুদির দোকান পরিচালনাকারী দুই ভাড়াটে ভাইয়ের ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।

