
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে সেটিকে ভারতের এক মসজিদে হিন্দুত্ববাদীদের হামলার ভিডিও বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল বন্দুকধারী লোক দৌড়াদৌড়ি করছে এবং চারিদিকে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে,”ভারতের মসজিদে জঙ্গি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন #R S S নিরীহ মুসলিম এর ওপর নামাজ রত অবস্থায় হামলা চালিয়েছে। বর্তমান সময়ে ভারতের হিন্দু এশিয়া মহাদেশের সবচায়তে বড় জঙ্গি সংগঠন। 👣 যার নেতা রেন্ডি মোদী।“
তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি এটি বিহারের পাটনার গার্ডানিবাগ হাই স্কুলে অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের দৃশ্য।
তথ্য যাচাইঃ
এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর কি ফ্রেমগুলোকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, এই ভিডিওটি ‘Jitendra Mohan Pintu Raj’ নামক ইন্সতা প্রোফাইলে পাওয়া যায়। ক্যাপশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে,” আজ পাটনা হাই স্কুল নাকনিবাগ এ ওয়েব সিরিজ নামক একটা সিনেমার শুটিং চলছে।“
উপরোক্ত তথ্যকে সুত্র ধরে অনুসন্ধান করলে আমরা ইউটিউবে একটি প্রতিবেদন পাই, যেখানে জানানো হয় যে পাটনার গার্ডানিবাগ হাই স্কুলে ভোজপুরি চলচ্চিত্র ‘সম্রাট’ এর দৃশ্যের শুটিং চলছিল।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পাটনা পুলিশের সরকারি হ্যান্ডেল থেকে একটি জনসচেতনতামূলক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে নিশ্চিত করা হয় যে, ভিডিওটি স্কুল প্রাঙ্গণে পূর্বানুমতি নিয়ে পরিচালিত একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় ধারণ করা হয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, বিভ্রান্তিকর দাবির সঙ্গে ভিডিওটি শেয়ার করে অযথা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। নাগরিকদের সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যাচাইবিহীন তথ্যের ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সতর্ক করে যে, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ফ্যাক্ট ক্রিসেণ্ডো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বিহারের পাটনার গার্ডানিবাগ হাই স্কুলে অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের দৃশ্যকে ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের মসজিদ হামলার ঘটনা বলে শেয়ার করা হচ্ছে।

