ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত বৃহৎ চাঁদের ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে ভাইরাল করা হচ্ছে

False Social

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, রাশিয়া ও কানাডার মধ্যবর্তী অঞ্চলে দিনের বেলা চাঁদ সূর্যকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য ঢেকে দেয় এবং ৫ সেকেন্ডের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। পোস্ট করা ২৬ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটবল আকৃতির চাঁদ, পৃথিবী পৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং কিছুক্ষণের জন্য সূর্যকে গ্রাস করে চারিদিক অন্ধকার করে দেয়। তার কিছু মুহূর্ত পরেই চাঁদ দিগন্তে হারিয়ে যায়।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে “রাশিয়া এবং কানাডার মধ্যে যেখানে আর্কটিক মহাসাগর অবস্থিত, যখন চাঁদ দিনের বেলা উঠে যখন সূর্যের সামনে দিয়ে যায় তখন এটি 30 সেকেন্ডের জন্য সূর্যকে covers করে রাখে এবং ততক্ষণে তা দিয়ে চলে যায় এবং 5 সেকেন্ডের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায় …. এই ভিডিওটি বিশেষ এক ধরণের মাইক্রো টেলিস্কোপ থেকে নেওয়া … আসল চাঁদটি কেমন তা এই ভিডিওতে দেখা যাবে … দুর্দান্ত দর্শন …. ……… সংগৃহীত”।   

তথ্য যাচাই করে আমরা জানতে পারি পোস্টের মাধ্যমে করা দাবি ভুয়া ও ভিত্তিহীন। ইউক্রেনের একজন কম্পিউটার গ্রাফিক্স শিল্পী দ্বারা ডিজিটাল ভাবে নির্মিত ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে যুক্ত করে ভাইরাল করা হচ্ছে।

আর্কাইভ 

তথ্য যাচাই 

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে আমরা প্রথমে ভিডিওটিকে ‘ইনভিড উই ভেরিফাই’ কয়েকটি ফ্রেমে আভগ করে গুগল সহ বিভিন্ন ইঞ্জিনে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। সন্তুষ্টিজনক কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। 

তারপর গুগলে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করি। ফলাফলে দেখতে পাই ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো শ্রীলঙ্কা এই ভিডিওর তথ্য যাচাই করে প্রমাণ করেছে এই দাবি ভুল। ওই প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি, ‘হোক্স আয়’ নামে একটি টুইটার হ্যান্ডলে থেকে ২০২১ সালের ২৬ মে ভাইরাল ভিডিও টি পোস্ট করা হয়।  টুইটে লেখা হয় “এই সুস্পষ্ট সিজি / ভিএফএক্স অ্যানিমেশন সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমার একমাত্র সমস্যা হল আমি এখনও শিল্পীকে খুঁজে পাইনি। কেউ কি উৎস জানেন? এই ক্লিপটি আমাকে ২০১৩ সালের একটি অ্যানিমেশনের কথা মনে করিয়ে দেয় https://t.co/OCbZaPcIVU?amp=1”। 

আর্কাইভ

এর পরে এই টুইটের থ্রেডে ওই প্রোফাইল থেকেই রিপ্লাই করে জানানো হয়, “শিল্পীকে খুঁজে পাওয়া গেছে।” আলেকসে” নামে এক টিকটক প্রোফাইলে এই ভিডিও পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ১৭ই মে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ওই টিকটক প্রোফাইলে এজাতীয় আরও অনেক অ্যানিমেশন ক্লিপ রয়েছে। 

আলেকসে’র টিকটক প্রোফাইলে তার ইন্সতাগ্রাম হ্যান্ডেলের লিঙ্ক দেখতে পাই। তার বায়ো থেকে জানতে পারি সে একজন কম্পিউটার গ্রাফিক্স শিল্পী, অ্যানিমেশন ও মানসচিত্র গঠনকারী। 

ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো আলেকসে’র সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান “আমি ইউক্রেনের একজন সিজি শিল্পি এবং এই ভাইরাল ভিডিওটি আমি ডিজিটাল ভাবে সম্পাদিত করে তৈরি করেছি। ভিডিওটি আর্কটিক অঞ্চলে ক্যামেরাবন্দী করা হয় এবং পরে সেটিকে সম্পাদিত করে পোস্ট করি।”    

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ক্রিসেন্ডো সিদ্ধান্তে এসেছে উপরোক্ত দাবিটি ভুল ও ভিত্তিহীন। ইউক্রেনের একজন কম্পিউটার গ্রাফিক্স শিল্পী দ্বারা ডিজিটাল ভাবে নির্মিত ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে যুক্ত করে ভাইরাল করা হচ্ছে।

Avatar

Title:ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত বৃহৎ চাঁদের ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবির সাথে ভাইরাল করা হচ্ছে

Fact Check By: Rahul A 

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *