বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলার জন্য সুইচ গেট নির্মিত করেছে ভারত? জানুন ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা

False Social

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলার জন্য ভারত সুইচ গেট নির্মিত করেছে। পোস্টের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি বাঁধে নির্মিত সুইচ গেট থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “বাংলাদেশের জন্য ভারতের তৈরী নতুন ফাঁদ! পানির বাঁধের নতুন আধুনিক সুইচ গেইট।”

তথ্য যাচাই করে আমরা জানতে পারি পোস্টের দাবি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর। জাপানের ইয়াহাগি জলবাঁধ থেকে জল ছাড়ার ভিডিওকে ভারতের বাঁধ দাবি করে ভুয়া পোস্ট ভাইরাল করা হচ্ছে। 

ফেসবুক পোস্ট 

তথ্য যাচাই 

এই দাবির সত্যতা যাচায় করতে আমরা ভিডিওটিকে ইনভিড টুলের মাধ্যমে কি-ফ্রেমে ভেঙ্গে গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। ফলে, Zii Neang নামের এক ফেসবুক প্রোফাইলে ভাইরাল ভিডিওর দীর্ঘরুপটি পাওয়া যায়। ক্যাপশনের মাধ্যমে এটিকে ইয়াহাগি বাঁধের জল ছাড়ার কথা বলা হয়। 

এই সূত্র ধরে ইউটিউবে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করি। আরও বেশ কয়েকটি চ্যানেলের ওয়েবসাইটে এই ভিডিওটি দেখতে পাওয়া যায়। ভিডিওর শীর্ষক এবং বিবরণ থেকে জানা যায় এটি জাপানের ইয়াহাগি বাঁধের ভিডিও। ভিডিওর কোথাও ভারত বা বাংলাদেশের বিষয়ে কোনও কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর এই বিষয়ে আরও তথ্য পেটে আমরা গুগলে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করি। ফলাফল থেকে জানতে পারি ইয়হাগি নদীর উপরে অবস্থিত এই বাঁধটির নাম হল ইয়াহাগি বাঁধ। উইকিপিডিয়াতে এই বাঁধের ছবি দেখতে পাই যার সাথে ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্য মিলে যায়। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

এরপর গুগল ম্যাপসে এই বাঁধের অবস্থান খুঁজে বের করি। ম্যাপসেও গ্যালারিতে এই বাঁধের একাধিক ছবি খুঁজে পাই। এই বাঁধের কয়েকটি ছবি নিচে দেওয়া হল। 

নিচে ভাইরাল ছবির স্ক্রিনশট এবং জাপানের ইয়াহাগি বাঁধের ছবির একটি তুলনা দেওয়া হল। এর থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় ভাইরাল ভিডিওর সাথে এই ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। 

নিষ্কর্ষঃ তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ক্রিস্যান্ডো সিদ্ধান্তে এসেছে উপরোক্ত দাবিটি ভুল ও ভিত্তিহীন। জাপানের ইয়াহাগি জলবাঁধ থেকে জল ছাড়ার ভিডিওকে ভারতের বাঁধ দাবি করে ভুয়া পোস্ট ভাইরাল করা হচ্ছে।   

Avatar

Title:বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলার জন্য সুইচ গেট নির্মিত করেছে ভারত? জানুন ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা

Fact Check By: Nasim A 

Result: False

Leave a Reply

Your email address will not be published.